ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র প্রকাশিত
গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন বরগুনা সদরের চারটি ইউনিয়নে বরগুনায় ফুলঝুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে পরকীয়া অপবাদে দিনভর গৃহবধু নির্যাতন, ভোরে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও AI-র অপব্যবহার রোধে পঞ্চগড়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত লন্ডনে বসে রাজনীতি করা চলবে না.. সাদিক কায়েম বরগুনায় পুলিশ সদস্যদের ৩ দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন পীরগঞ্জে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ বিতরণ পীরগঞ্জে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত বরগুনায় বদরখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পান্না আকনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণ

বরগুনায় ৩৩০০ কৃষকের মাঝে ভেজা ও নষ্ট সার-বীজ বিতরণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাফলিত” কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫ ৯২৮ বার পড়া হয়েছে

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনা সদর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারের দেয়া নিম্নমানের, বৃষ্টিতে ভেজা ও নষ্ট সার ও ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই২৫ ) উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের ৩৩০০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে বিতরণকৃত সার ও বীজগুলো অনেকটাই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, এগুলো কৃষি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অসতর্কতা ও অবহেলার কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলো নষ্ট হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন,আমরা জনপ্রতি ২০০ টাকার বেশি খরচ করে এই ভেজা সার-বীজ আনছি। কিন্তু এগুলোর এখন কোনো উপকারে আসবে না। এই অবস্থায় আমাদের ফসল নষ্ট হবে।

কৃষকরা আরও জানান, মালগুলো বরগুনা সদরের একটি পরিত্যক্ত ভবনের গোডাউনে অনিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করায়, বর্ষায় পানি ঢুকে তা ভিজে যায়। তারা এর জন্য সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

সচেতন মহল বলছেন এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নতুনভাবে উপযোগী সার-বীজ পুনরায় সরবরাহ করা হোক।

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফাটল ছিল সেই জায়গা থেকে পানি ঢুকে কিছু সার ও ধানের বীজ নষ্ট হয়েছে‌। মালামাল স্তূপ করার জন্য একটি ব্যবহারের উপযোগী গোডাউন দরকার। তা না হলে বৃষ্টিতে মালামাল রাখা ঝুঁকি হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো ঠিক হয়নি সাংবাদিকদের হুমকি দেন এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা, খামারবাড়ির উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের যেন ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর বরগুনা জেলায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এভাবে তদারকি ও বিতরণ ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা চলতে থাকে, তবে তাদের ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সরকারি সহযোগিতা যেন কৃষকদের উপকারে আসে — এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু এমন অনিয়ম কৃষকদের আস্থা নষ্ট করছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় ৩৩০০ কৃষকের মাঝে ভেজা ও নষ্ট সার-বীজ বিতরণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাফলিত” কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

আপডেট সময় : ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনা সদর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারের দেয়া নিম্নমানের, বৃষ্টিতে ভেজা ও নষ্ট সার ও ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই২৫ ) উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের ৩৩০০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে বিতরণকৃত সার ও বীজগুলো অনেকটাই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, এগুলো কৃষি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অসতর্কতা ও অবহেলার কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলো নষ্ট হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন,আমরা জনপ্রতি ২০০ টাকার বেশি খরচ করে এই ভেজা সার-বীজ আনছি। কিন্তু এগুলোর এখন কোনো উপকারে আসবে না। এই অবস্থায় আমাদের ফসল নষ্ট হবে।

কৃষকরা আরও জানান, মালগুলো বরগুনা সদরের একটি পরিত্যক্ত ভবনের গোডাউনে অনিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করায়, বর্ষায় পানি ঢুকে তা ভিজে যায়। তারা এর জন্য সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

সচেতন মহল বলছেন এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নতুনভাবে উপযোগী সার-বীজ পুনরায় সরবরাহ করা হোক।

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফাটল ছিল সেই জায়গা থেকে পানি ঢুকে কিছু সার ও ধানের বীজ নষ্ট হয়েছে‌। মালামাল স্তূপ করার জন্য একটি ব্যবহারের উপযোগী গোডাউন দরকার। তা না হলে বৃষ্টিতে মালামাল রাখা ঝুঁকি হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো ঠিক হয়নি সাংবাদিকদের হুমকি দেন এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা, খামারবাড়ির উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের যেন ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর বরগুনা জেলায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এভাবে তদারকি ও বিতরণ ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা চলতে থাকে, তবে তাদের ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সরকারি সহযোগিতা যেন কৃষকদের উপকারে আসে — এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু এমন অনিয়ম কৃষকদের আস্থা নষ্ট করছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।