ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র প্রকাশিত
বরগুনায় ফুলঝুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে পরকীয়া অপবাদে দিনভর গৃহবধু নির্যাতন, ভোরে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও AI-র অপব্যবহার রোধে পঞ্চগড়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত লন্ডনে বসে রাজনীতি করা চলবে না.. সাদিক কায়েম বরগুনায় পুলিশ সদস্যদের ৩ দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন পীরগঞ্জে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ বিতরণ পীরগঞ্জে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত বরগুনায় বদরখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পান্না আকনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণ গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বরগুনায় সমন্বিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ রক্তাক্ত হামলা-লুটপাট, আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

লালন সরকার, দেবীগঞ্জ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি পঞ্চগড়ের বিজ্ঞ আমলী আদালত (দেবীগঞ্জ) এ বিচারাধীন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের নাটকটোকা ডাকুয়াপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমি আক্তার (স্ত্রী: রুহুল আমিন) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, রুমি আক্তার ও তার স্বামী রুহুল আমিনের বাড়ির সীমানা ও আসামিদের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০ জুন তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই, ১৫ জুন আসামি সইজ উদ্দিন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বাঁশের বেড়া দেন। এতে হাফিজ উদ্দিন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ সময় সইজ উদ্দিন, সুলতান, রবিউলসহ আরও অনেকে হাফিজ উদ্দিন ও রুবিনা আক্তারের উপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরদিন ১৬ জুন, ভুক্তভোগী পরিবার চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকাকালে আসামিরা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় গরু, ছাগল, চাল-ডাল, কাপড়-চোপড় ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন রুমি আক্তার।

রুমি আক্তার আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, বাদশা মিয়ার মৃত্যুর খবর শোনার পর আসামিরা হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে প্রতিবাদ করে।

রুমি আক্তার এ ঘটনায় ৯ জুলাই আদালতে মামলা (নম্বর: সিআর ১৯৮) দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি সইজ উদ্দিন ও সুলতান বলেন, “রুহুল আমিনের পরিবার পরিকল্পিতভাবে বাড়ির মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।”

অন্যদিকে বাদী রুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আসামিরা আমার সর্বস্ব লুটে নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করেছে। আমি আমার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাবো? বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছি। বাবারই সংসার চলে না, তিনি কিভাবে আমার দুই সন্তানসহ আমাকে চালাবেন? আমি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, “এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি কারো ভয়ে বাড়িতে থাকতে না পারে, তবে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

উল্লেখ্য, একই জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে (১৫ জুন) মারামারির ঘটনায় বৃদ্ধ বাদশা মিয়া গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ সইজদ্দীন ইসলাম বাদী হয়ে (১৬ জুন) দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মামলায় অভিযুক্ত রুহুল আমিন, রবিউল ইসলাম ও রুবিনা আক্তার জেলহাজতে রয়েছেন। আরেক আসামি হাফিজ উদ্দিন পলাতক আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ রক্তাক্ত হামলা-লুটপাট, আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী

আপডেট সময় : ১০:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

লালন সরকার, দেবীগঞ্জ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি পঞ্চগড়ের বিজ্ঞ আমলী আদালত (দেবীগঞ্জ) এ বিচারাধীন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের নাটকটোকা ডাকুয়াপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমি আক্তার (স্ত্রী: রুহুল আমিন) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, রুমি আক্তার ও তার স্বামী রুহুল আমিনের বাড়ির সীমানা ও আসামিদের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০ জুন তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই, ১৫ জুন আসামি সইজ উদ্দিন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বাঁশের বেড়া দেন। এতে হাফিজ উদ্দিন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ সময় সইজ উদ্দিন, সুলতান, রবিউলসহ আরও অনেকে হাফিজ উদ্দিন ও রুবিনা আক্তারের উপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরদিন ১৬ জুন, ভুক্তভোগী পরিবার চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকাকালে আসামিরা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় গরু, ছাগল, চাল-ডাল, কাপড়-চোপড় ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন রুমি আক্তার।

রুমি আক্তার আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, বাদশা মিয়ার মৃত্যুর খবর শোনার পর আসামিরা হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে প্রতিবাদ করে।

রুমি আক্তার এ ঘটনায় ৯ জুলাই আদালতে মামলা (নম্বর: সিআর ১৯৮) দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি সইজ উদ্দিন ও সুলতান বলেন, “রুহুল আমিনের পরিবার পরিকল্পিতভাবে বাড়ির মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।”

অন্যদিকে বাদী রুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আসামিরা আমার সর্বস্ব লুটে নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করেছে। আমি আমার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাবো? বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছি। বাবারই সংসার চলে না, তিনি কিভাবে আমার দুই সন্তানসহ আমাকে চালাবেন? আমি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, “এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি কারো ভয়ে বাড়িতে থাকতে না পারে, তবে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

উল্লেখ্য, একই জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে (১৫ জুন) মারামারির ঘটনায় বৃদ্ধ বাদশা মিয়া গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ সইজদ্দীন ইসলাম বাদী হয়ে (১৬ জুন) দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মামলায় অভিযুক্ত রুহুল আমিন, রবিউল ইসলাম ও রুবিনা আক্তার জেলহাজতে রয়েছেন। আরেক আসামি হাফিজ উদ্দিন পলাতক আছেন।