বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কাস্টমসের প্রতিদিন ঘুষ-বাণিজ্য অর্ধলক্ষাধিক টাকা গনমাধ্যম কর্মীরা তথ্য চাইতেই তেড়ে উঠলেন সহকারী কমিশনার,
- আপডেট সময় : ০২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

মোছাঃ আছমা আক্তার আখি পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কাস্টমসের প্রতিদিন ঘুষ-বাণিজ্য অর্ধলক্ষাধিক টাকা গনমাধ্যম কর্মীরা তথ্য চাইতেই তেড়ে উঠলেন পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের সহকারী কমিশনার ইসাহাক আলী। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বিগত অর্থবছরে আমদানী এবং রপ্তানী খাতে কি পরিমান সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে এই তথ্য জানতে চাওয়ায় তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের তথ্য না দিয়ে নানা নীতিকথা শুনাতে থাকেন। এসময় তার কাছ থেকে তথ্য প্রদানের সহায়তা চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন আমার কাজ নেই; আপনাদের তথ্য দিয়ে আমি চাকুরীটা হারাবো নাকি। সাংবাদিকদের যে কোন তথ্য প্রদান করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধ রয়েছে। তথ্য নিয়ে আপনাদের কি কাজ। কমিশনারের অনুমতি নিয়ে আসেন, তারপর তথ্য পাবেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এই কর্মকর্তা। গত সোমবার দুপুরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর স্টেশনে পঞ্চগড় জেলার প্রথম সারির কয়েকজন সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এমন অসদাচারন করেন বন্দরের সহকারী কমিশনার মোঃ ইসাহাক আলী।
পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা তাৎক্ষনিক রংপুরে কাস্টমস এর কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করতে ফোন করা হলে সে সময় কমিশনারকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে কমিশনারের প্রটোকল অফিসার বিষয়টি শুনে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন তিনি এই ভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসদাচারন করতে পারেন না। পুরো বিষয়টি তিনি কমিশনারকে জানাবেন বলে সাংবাদিকদের তাৎক্ষনিকভাবে আশ্বস্থ করেন।
জানা যায় গত এক বছর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার বদলির আদেশ হয়েছে সম্প্রতি। যে কারণে তিনি গত কয়েকদিন ধরে ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফদের ডেকে নিয়ে অবৈধ আয়ের বকেয়া টাকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে প্রদান করতে হবে এমন মৌখিক আদেশ জারি করেন। ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফরা তার এই অবৈধ নির্দেশনা না মানায় গত ২দিন ধরে তিনি অগ্নিমূর্তি হয়ে আছেন। এমতাবস্থায় গনমাধ্যম কর্মীদের আগমন এবং তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিতে তিনি নাখোশ হয়ে পড়েন। দিনের শেষ অংশে গনমাধ্যমকর্মীরা বন্দরের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ সহ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন নানা তথ্য উপাথ্য।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দেশের একমাত্র চর্তুরদেশীয় বাণিজ্য স্থলবন্দর। ভারত ভূটান নেপাল এবং বাংলাদেশের সাথে এই বন্দরের অর্থবাণিজ্য আশাতিতভাবে চলছে। এই বন্দরে আমদানির বড় ক্ষেত্র পাথর। রপ্তানি হচ্ছে, আলু, পাট,ঔষধ,গ্রামীণ ঝুট সহ অনুমোদিত নানা পণ্য। ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ফাঁদে ফেলে আমদানী এবং রপ্তানির প্রতি কনসানমেন্ট থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কাস্টমস সহকারি কমিশনার ইসাহাক আলী। বর্তমানে বন্দরে এটি অঘোষিত ঘুষ-বাণিজ্য রীতিতে পরিনত হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে আসা রপ্তানীকৃত প্রতিটন পাথর থেকে কাস্টমস সংশ্লিস্ট সিএনএফ এজেন্টদের মাধ্যমে ১০ টাকা হারে বাধ্যতামুলক আদায় করেন। রপ্তানীকৃত পণ্যের প্রতি কনসান্টমেন্ট থেকে আদায় করে ৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টন পাথর প্রবেশ করে। রপ্তানীর হারও অনেক বেশী। অর্থাৎ প্রতিদিন বন্দর থেকে কাস্টমস এর অবৈধ আয় অর্ধলক্ষাধিক টাকার বেশি। প্রতিদিনের হিসাব সপ্তাহের শেষ দিনে সংশ্লিস্ট সিএনএফদের কাছ থেকে বুঝে নেন ওই কর্মকর্তা। এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বিড়ম্বনা এড়াতে ব্যবসায়ীরা তাদের সিএন্ড এফদের মাধ্যমে এই অবৈধ অর্থ জোগান দিয়ে আসছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা বলেন ঘুষের টাকা না দিলে কাষ্টমস নানা প্রকার ফেকড়া বের করে তাদের হয়রাণি করেন। ফলে বিড়ম্বনা এড়াতে বাধ্য হয়েই তারা এই ঘুস প্রদান করছেন।
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকার অর্থ বানিজ্য খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকলেও পঞ্চগড়ের এই বাংলাবান্ধা বন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা জাতীয় রাজস্ব আদায়ের নামে অবৈধ আয় নিয়ে বিভোর। ব্যবসায়ীদের উপর এই অনাকাংখিত চাপ ব্যবসা বানিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক ব্যবসায়ী কাস্টমস এর এই অনিয়ম দূর্নীতিতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এই বন্দ থেকে। ফলে আশংকাজনক হারে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলার গণমাধ্যম কর্মী এবং এলাকার সচেতন মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই দূর্নীতিবাজ উগ্ন মেজাজি কর্মকর্তা কে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন।










