ভূয়া বিয়ের মাধ্যমে মাদ্রাসা ছাত্রীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ,
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি,
বিয়ের নাটক করে ভূয়া বিয়ের মাধ্যমে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বাজারে মাড়েয়া এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী ফাতেমা আক্তার, তার পরিবারসহ কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে ফাতেমার মা, মাদ্রাসার ছাত্রী এবং প্রতিবেশী নারীরা বক্তব্য রাখেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের পর ফকিরপাড়া গ্রামের ইয়াসিনের ছেলে শাকিল নাটক করে ভূয়া বিয়ে সম্পন্ন করে ফাতেমাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ফাতেমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে শাকিল ও তার পরিবার। এক পর্যায়ে ফাতেমা প্রতিবাদ করলে শাকিলের চাচা ও স্থানীয় জামাতে ইসলামের সেক্রেটারি ইয়াকুব আলীর সহযোগিতায় আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পুলিশের হাতে ফাতেমাকে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উল্টো ফাতেমার বিরূদ্ধে মামলা করে শাকিলের পরিবার। আদালতে হাজিরের পর দুই দিন কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান ফাতেমা।বর্তমানে ফাতেমাকে আর স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছে না শাকিল ও তার পরিবার। উপায় না পেয়ে ফাতেমা ন্যায়বিচারের আশায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী মাড়েয়া বাজারে শাকিলের পরিবার এবং জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফাতেমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে হবে। কারণ শাকিলের সঙ্গে বিয়ের খবর জানাজানি হয়েছে। এখন শাকিল যদি ফাতেমাকে অস্বীকার করে, তাহলে তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা অভিযোগ করেন, শাকিলের নির্যাতন ও তার চাচা জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর ষড়যন্ত্রে ফাতেমার পরিবার নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে।অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ফাতেমা বলেন,বিয়ের পর শাকিলের মা–বাবা আমার প্রতি অমানবিক আচরণ শুরু করে। তার মামি প্রায়ই অপমান করে বলত, ‘মরে যা, ফাঁসি লাগা ভালো।’ তার চাচা, যিনি একজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা, তিনি পর্যন্ত আমাকে জবাই করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অসহ্য কষ্ট সহ্য করেও আমি ওদের বাড়িতে থেকে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে খেতে দিত না, বাথরুমে যেতে দিত না, নানা অজুহাতে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করত। আমার মা–বাবার কাছ থেকেও বারবার টাকা দাবি করত তারা। কিন্তু গরিব মা–বাবা কোথায় পাবে এত টাকা? শেষ পর্যন্ত আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে তারা। আমি শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায়, শাকিলকে লুকিয়ে রেখে আমার নামে একটি ডিভোর্স লেটার পাঠায়। আমি তাতে স্বাক্ষর না করায়, পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। টাকার জোরে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা আমাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমার জীবনটা তারা একেবারে শেষ করে দিয়েছে। এখন আমি জানি না কোথায় যাব, কী করব। উপায় না দেখে, শেষ আশ্রয় হিসেবে আমি মানববন্ধনে নেমেছি—ন্যায়বিচারের আশায়।পরে মানববন্ধন শেষে মাড়েয়া বাজারে বিক্ষোভ করেন মাড়েয়া এলাকাবাসী। শাকিল, তার পরিবার এবং জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন নারীরা। তারা বলেন, দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।এ বিষয়ে জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি একটি মিটিংয়ে আছি, দুঃখিত—এই মুহূর্তে কথা বলতে পারব না।নীলফামারী জেলার কাজী আব্দুল মজিদকে বিয়ের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে উনি বলেন আমি এখন কিছু বলতে পারব না, আসেন সাক্ষাতে আলাপ হবে।













