জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন ট্রাইব্যুনাল
- আপডেট সময় : ০৪:০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতির মঞ্চে চার দশকের বেশি বিচরণ, টানা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন, এরপর জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বাংলাদেশে রাষ্ট্র কিংবা সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে। পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে বাকি আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এই রায় হয়। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে ওঠেন। এখনো সেখানেই রয়েছেন তিনি। পলাতক থাকায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না বলে ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।
দেশে এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। দলটির কোনো সক্রিয় তৎপরতা না থাকলেও এই রায় ঘিরে অনলাইনে ‘শাটডাউন’ এর কর্মসূচির প্রচার চালিয়েছিল তারা। তার মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে হাতবোমা হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটছিল ১৩ নভেম্বর থেকেই।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় উল্লাস। এই রায়কে ন্যায়বিচার বলেছে বিএনপি। জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও বলেছে, শেখ হাসিনার উপযুক্ত বিচারই হয়েছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠন করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ও এসেছিল এই আদালত থেকে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এই আদালতে করতে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। আজ সোমবার সেই ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলাটির রায় হলো। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা চলছে ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া আদালত অবমাননার দায়ে তাঁকে এই ট্রাইব্যুনাল এর আগে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দিয়েছিলেন।
যে কারণে মৃত্যুদণ্ড
আজ যে মামলার রায় হয়েছে, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেগুলো হলো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সব অভিযোগেরই প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর মধ্যে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার শাস্তি হয়েছে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত হওয়ায়।
ড্র্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি, প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল এবং চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার অপরাধে তাঁকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।


















