অপ্রয়োজনীয় সিজার করানো নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হলেও ভুল তথ্য দিয়ে অনেক মাকে সিজারে বাধ্য করা হতো
দেবীগঞ্জে স্কয়ার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ স্টাফের ফেসবুক পোস্টে ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ৪৪১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেক্স,
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া সেতুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর রিসেপশনিস্ট সাদিক শাহরিয়ার (সম্পদ) তাঁর ফেসবুক আইডিতে ক্লিনিকের গত পাঁচ মাসের অনিয়ম ও অজানা অন্ধকারাচ্ছন্ন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।গত ১০ অক্টোবর ভোরে চিকিৎসক ডা. শিখা মনি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা পর কৃষ্ণা রানী (২২) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের নির্দেশে ক্লিনিকটি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়, পরে তা পুনরায় চালু করা হয়।
চিকিৎসক ডা. শিখা মনি, যিনি ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুলের মেয়ে, বলেন- সাদিক শাহরিয়ার (সম্পদ) আমার বাবার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ডিউটিতে অনিয়ম ও অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নজরে রাখা হয়। আমার বাবা তাকে সতর্ক করার পরও তিনি নিয়মিত দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে যে পোস্ট করেছে, তার জবাব আপনারা তার কাছ থেকেই চান। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি ওই পোস্টটি করেছেন। ওই পোস্টের কারণে আমাদের মানহানি হয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দিতে পারতেন। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন, তার দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। ৯–১০ দিন আগেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাদিক শাহরিয়ার (সম্পদ) বলেন, পোস্টটি আমি করেছি এবং এর সব তথ্য ও প্রমাণপত্র আমার কাছে রয়েছে। প্রায় ৯–১০ দিন আগে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। আমি চাই এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক-এত অনিয়ম নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না।
২০ নভেম্বর সাদিক শাহরিয়ার (সম্পদ) তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন,👉 আসসালামু আলাইকুম।
দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক-এ আমি গত ৫ মাস রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠার প্রায় শুরু থেকেই প্রতিদিন ১২–১৪ ঘণ্টা সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। কিন্তু এত অনিয়ম, প্রতারণা আর অবহেলা দেখে আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। সত্য বলার দায় থেকেই এই পোস্ট।এখানে আমি যে ভয়াবহ অনিয়মগুলো নিজ চোখে দেখেছি, তার কয়েকটি তুলে ধরছি—১. অপ্রয়োজনীয় সিজার করানো নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হলেও ভুল তথ্য দিয়ে অনেক মাকে সিজারে বাধ্য করা হতো।২. অপারেশনের পর অতিরিক্ত টাকা আদায় অবস্থা জটিল” বলে রোগীর স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বাড়তি মেডিসিন/ইনজেকশন নিতে বলা হতো।৩. সরঞ্জামে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি২২ টাকার ন্যাপকিন ১০০ টাকায়, ৫৫ টাকার বেল্ট ৪০০ টাকায় বিক্রি—এমন লুটপাট নিয়মিত।লেবেলহীন ওষুধ দিয়ে কোম্পানির নাম গোপন রাখা হতো।৪. সিজারের পর ভয়াবহ ইনফেকশন শতাধিক রোগী ইনফেকশনে ভুগেছেন—এখনো অনেকে কষ্টে আছেন।৫. নবজাতকের মৃত্যু অবহেলার কারণে একাধিক নবজাতক মৃত্যুবরণ করেছে—যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।৬. প্রসূতি মায়ের মৃত্যু আড়াল করতে দ্রুত লাশ পুড়িয়ে ফেলা পোস্টমর্টেম এড়াতে রোগীর লোককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে দ্রুত লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল—এটি আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন।৭. একজন মায়ের জরায়ু কেটে ফেলাস্বজনদের না জানিয়ে রাতারাতি দ্বিতীয়বার অপারেশন করে জরায়ু কেটে ফেলা হয়—তিনি আর কখনো মা হতে পারবেন না।৮. অপারেশনের সময় রোগীর পা পুড়ে যাওয়াঅপারেশন টেবিলের ভুল ব্যবস্থাপনায় রোগীর পা পুড়ে যায়—এখনো ক্ষত শুকায়নি।৯. স্টাফদের উপর নিষ্ঠুর আচরণ হুমকি, অপমান, মানসিক নির্যাতন—সবই ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। আমাকেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ১০. সবচেয়ে বিপজ্জনক—বর্তমানে ক্লিনিকে কোনো রেজিস্টার্ড নার্স নেই নার্সবিহীন অবস্থায় অপারেশন-পরবর্তী কেয়ার, ইনজেকশন, ড্রেসিং, নবজাতকের কেয়ার—সব চলছে অদক্ষ লোক দিয়ে।
এটি রোগীর জীবনের জন্য সরাসরি বিপদ এবং আইনবিরোধী।এসবকিছুর মূলহোতা ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম ওরফে (বাবুল ডাক্তার) যার সরাসরি তত্বাবধানে এবং ক্ষমতার ভয়ভীতিপ্রদর্শন করে সব অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়ে আসছে।
আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি।আমার কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। উপরোক্ত কোনো বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ধন্যবাদ।













