দেবীগঞ্জে অবৈধ সার মজুদের অভিযোগে শিখামনি ট্রেডার্সকে জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

লালন সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি, (পঞ্চগড়)
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৯নং দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় অবৈধভাবে সার মজুদ রাখার দায়ে মেসার্স শিখামনি ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম (বাবুল)-কে ২০০৬ সালের আইনে অপরাধ হিসেবে সার মজুদ রাখার জন্য ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের উপস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। তালাবদ্ধ সার গোডাউন তল্লাশি করে DAP, MOP ও TSPসহ অন্যান্য সার মিলিয়ে মোট ২১৫১ বস্তা সার মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ বস্তা সার বৈধভাবে আবাদের জন্য ছাড়া দেওয়া হয়। বাকি ১৯১১ বস্তা সার অবৈধভাবে মজুদ দেখানো হয়েছে।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাঈম মোর্শেদ, দেবীগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প ক্যাপ্টেন মোঃ সাকিব হাসান, দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের টিম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় প্রধান, স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
জানা গেছে, মেসার্স শিখামনি ট্রেডার্স-এর ব্যবসায়িক লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি সার মজুদ করে আসছিল। অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধভাবে সার মজুদের অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জব্দকৃত সার সরকারি নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দেন। সার বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে।দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, অবৈধভাবে সার মজুদ করে কেউ কৃষকের ক্ষতি করতে চাইলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। জনগণকেও এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি। অভিযান চলমান থাকবে।
অভিযানের সময় স্থানীয়রা জানান, শিখামনি ট্রেডার্সের দোকান থেকে কৃষকদের অধিক মূল্যে সার কিনতে বাধ্য করা হতো। তারা সিন্ডিকেটের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।কিছু স্থানীয় মনে করছেন, সার মজুদের অপরাধে সাধারণত অর্থদণ্ডের পাশাপাশি জেলও হতে পারত। তবে একজন ব্যবসায়ীকে শুধুমাত্র অল্প জরিমানা দিয়ে ছাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি মাধ্যমে সার বিক্রি করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এ কি ধরনের আইন?”













