ছাত্রলীগের চাবিকাঠি শেখ হাসিনার হাতে
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  

রাজনীতি: আওয়ামীলীগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৯তম সম্মেলন
ছাত্রলীগের চাবিকাঠি শেখ হাসিনার হাতে

Sabuj ১০-০৫-২০১৮ ০৬:৩৪ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা :
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন। নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ২৪ জনের একটি তালিকা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌছেছে। গত একমাস ধরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তালিকাভুক্ত পদ প্রত্যাশীদের ‘আমলনামা’ যাচাই বাছাই করছেন বলেও জানা গেছে। যার প্রতিফলন পরবে ১১ ও ১২ তারিখের সম্মেলনে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব ভোটের মাঠকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, গত তিন মাসে কয়েকদফা বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ভালো কমিটি, যারা জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে সম্প্রতি দেশব্যাপী ছাত্রলীগের কর্মকান্ড এবং দলে ভিন্ন মতাদর্শের ছাত্রদের অনুপ্রবেশে অনেকটাই বিব্রত আওয়ামী লীগ।

তবে সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সাবেক ছাত্র নেতাদের দ্বারা গঠিত অলিখিত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ দলের শীর্ষ নেতারা এই সিন্ডিকেট থেকে কমিটি গঠনের জন্য সমঝোতা করতে চান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গার পক্ষে জোরালো অবস্থানে রয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও এরকম একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সম্মেলনে কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থনের প্রয়োজন নেই। যোগ্যতা, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও মেধার বিবেচনায় সিলেকশন পদ্ধতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে’।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  ছাত্রলীগের এই সম্মেলন। কাজেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন, চৌকস, মেধাবী, দলের প্রতি আনুগত্যশীল, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদেরই গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ে দীর্ঘ দিনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট ভাঙতে চায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

জানা গেছে, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিও। গুঞ্জন রয়েছে শীর্ষ চারটি পদে (কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গ গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও বরাবরের মতো থাকছে বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের গুরুত্ব। আওয়ামী লীগেরও শীর্ষ পদে থাকা নেতারা নিজেদের অনুগত নেতাদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে টানতে স্ব-স্ব জায়গা থেকে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।  

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে যারা আলোচনায় আছেন-

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় রয়েছেন, ঢাবি  আইন অনুষদ ছাত্রলীগ সভাপতি  মোঃ শরিফুল হাসান শুভ। শুভ এর আগে ঢাবি আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ফলে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার কাজের ভূয়াসী প্রশংসা করে সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। এদিক থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় তার নামটা থেকেই যাচ্ছে।

শরিফুল হাসান শুভ বলেন, ‘মুজিবীয় আদর্শ বুকে ধারণ করে ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে যাত্রা শুরু করি। এরপর একের পর এক নেতৃত্ব গুণের পরিচয় দিয়ে আজকে এই জায়গায় এসেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী রাজনীতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের দায়িত্ব পেলে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বদা নিয়োজিত থাকবো।

আসন্ন সম্মেলনে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে ঢাকা  উত্তর  ছাত্রলীগের  সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন তপুর নাম রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। জানা গেছে, রাজধানীতে জামাত শিবির বিরোধী রাজনীতিতে অকুতোভয় অগ্রসেনাদের মধ্যে অন্যতম নাম ইসমাইল হোসেন তপু। ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়েছেন বহুবার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে কলেজ জীবনের শেষ পর্যন্ত ছিলেন ছাত্রলীগের সাথে। মেধাবী এ ছাত্রনেতা সাহসীকতার সাথে সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ইসমাইল হোসেন তপু বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজীবন আওয়ামী রাজনীতির আছেন। তাঁর সন্তান হয়ে আমি জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে বাবা যে ভাবে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করছেন। ঠিক সেভাবেই বাবার আদর্শ বুকে ধারন করে সারাজীবন আ’লীগের জন্য কাজ করবো। তপু আরও বলেন, আমাদের মা জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য আমি সবসময় জীবন দিতে প্রস্তুত।
 
এছাড়াও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরিফিন,সদস্য রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, স্কুলছাত্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান ইমরান, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, স্কুলছাত্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম হাবিবুল্লা বিপ্লব, সহ সম্পাদক খাদিমুল বাসার জয়, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্স, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, স্যার এ এফ রহমান হলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রানা হামিদ, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, উপ-স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, জিয়া হলের সাবেক সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন।
 

তবে ছাত্রলীগের এবারের সম্মেলনে চমক হিসেবে শীর্ষ যে কোনো পদে দেখা যেতে পারে নারী নেত্রীকে। আলোচনায় থাকা  নারী নেত্রীরদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির  সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতী, সহ-সভাপতি ও শামসুন নাহার হলের সাবেক সভাপতি নিশীতা ইকবাল নদী, সহ-সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের মেয়ে অর্না জামান, রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপ আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইশাত কাসফিয়া ইরা, অর্থবিষয়ক উপসম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার প্রমুখ
ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন সম্পর্কে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, অবশ্যই মেধাবী ও যোগ্যরা কমিটিতে স্থান পাবেন। তবে আমরাও কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব চাইনা। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই কমিটি করা হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সেগুলো দেখা হয়েছে। কিছু অভিযোগ সত্য আবার কিছু অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। এসব দেখেই কমিটি গঠন করা হবে।

 
১০-০৫-২০১৮ ০৬:৩৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
রাজনীতি : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন