নয়া কৌশলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:৩১ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  

রাজনীতি: বিএনপি

খালেদা জিয়ার মুক্তি
নয়া কৌশলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

Sabuj ১৭-০৫-২০১৮ ০১:৩১ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ

পবন আহমেদ :

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক লড়াই ও বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তির বিষয় নয়া কৌশল তৈরি করছে তারা। তবে আগামী ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পৃথক ভাবে ছয়টি টিম গঠন করেছে। এ ছয় টিম খালেদা জিয়ার চলমান ছয় মামলা নিয়ে কাজ করবে বলে জানা গেছে।

গতরাতে গুলশানে বিএনপির আইনজীবীরা বেগম জিয়ার চলমান মামলা নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠক করে। বৈঠকে কুমিল্লার দুটি মামলায় জামিনের জন্য রোববার থেকে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য মামলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট আদালতে অবিলম্বে জামিন আবেদন করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

বিএনপির একজন আইনজীবী বলেছেন, আমরা জানি অধ:স্তন আদালতে বেগম জিয়ার জামিন পাওয়া হবে না। এ কারণে আমরা দ্রুত মামলা উচ্চ আদালতে নিয়ে আসতে চাই।

বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যে কটা মামলায় বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, এসব মামলা উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হাস্যকর এবং হয়রানিমূলক। আমরা কেবল জামিন নয় এসব মামলা বাতিলের আবেদন করবো।’ বিএনপির আইনজীবীরা ছয়টি মামলায় এক সঙ্গে জামিনের জন্য ছয়টি টিম করেছে। এই ছয় টিম ছাড়াও হাইকোর্টে যেন দ্রুত জামিন হয় সেজন্য কাজ করবে খন্দকার মাহাবুব হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম।  

জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট :
জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাতের যে মামলাটির সেটি দায়ের হয়েছিল ২০০৮ সালে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়।
মামলার অভিযোগ ছিল খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত এই দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
আরো চারটি দুর্নীতির মামলা লড়ে যেতে হবে খালেদা জিয়াকে। যে মামলাগুলোর তিনটিই দায়ের করা হয় ২০০৭ পরবর্তী তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা :
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয় ২০০৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়।
মামলার মূল অভিযোগ- প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় খালেদা জিয়া তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে এই ট্রাস্টের জন্য ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার তহবিল জোগাড় করেছিলেন।

নাইকো মামলা :
কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা লোকসান করার এই মামলাটি হয় ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়। মামলায় শেখ হাসিনাকেও আসামী করা হয়েছিল, কারণ এই চুক্তিটি প্রথম করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পরে ২০০৯ সালে সরকার প্রতিষ্ঠা করার পর শেখ হাসিনা আদালতের মাধ্যমে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। তবে মামলাটি রয়ে যায় এবং আসামী হিসাবে থেকে যান খালেদা জিয়া।

গ্যাটকো মামলা :
ঢাকার কমলাপুরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্যাটকো নামে একটি কোম্পানিকে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটিও হয় ২০০৭ পরবর্তী সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলা :
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে দায়ের করা এই মামলার অভিযোগ ছিল -চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি শর্ত ভেঙ্গে সরকারের চোখের সামনে অতিরিক্ত এলাকায় কয়লা খনন করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে, এবং খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

নাইকো, গ্যাটকো এবং বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলায় পুলিশ এখনও চার্জশিট দেয়নি।

বিএনপি সবসময় অভিযোগ করে, এই সব দুর্নীতি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।

দুর্নীতির এই ছয়টি মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো ৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মামলা নাশকতার। সেইসাথে রয়েছে মানহানি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের বেশ কিছু মামলা। ১৫ই আগস্টে তার জন্মদিনটি ভুয়া - এই অভিযোগেও একটি মামলা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।
খালেদা জিয়ার মোট ৩৪ মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের,  অন্য ৩০টি বর্তমান সরকার আমলের,  বিচারাধীন ১৯টি,  তদন্তাধীন ১২টি আর স্থগিত ৩টি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য এসব মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়।
আইনজীবী মাসুদ তালুকদার বলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৭-০৮ সালে তাদের বিরুদ্ধে করা এরকম শত শত মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে নিলেও, বিএনপির করা আবেদনগুলো বিবেচনা করেনি।
১৭-০৫-২০১৮ ০১:৩১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
রাজনীতি : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:৩১ অপরাহ্ন