অভিযোগ নিয়ে দর-কষাকষি ওসির
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  


অভিযোগ নিয়ে দর-কষাকষি ওসির

নিউজ ডেস্কঃ ২২-০৫-২০১৮ ০৮:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ
ভোলা প্রতিনিধি :  

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিকে আটক করে লকাবে রেখে অভিযোগ কতটা গুরুতর সে বিবেচনায়  চলে দর-কষাকষি। । এমনকি আসামিকে আটক করে লকাবে রেখে অভিযোগ কতটা গুরুতর সে বিবেচনায়  চলে দর-কষাকষি।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলাপ্রতি ১০ হাজার, অভিযোগ তদন্তে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদক ও নারী কেলেঙ্কারির আসামিদের থানা হেফাজতে (লকাবে) আটক রেখে মোটা অঙ্কের টাকা রফাদফায় ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

 
সূত্র জানায়, ওসি হাবিবুর রহমান গত ১০ অক্টোবর দক্ষিণ আইচা থানায় যোগ দেন। এর পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ দিতে হলে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। আসামিকে আটক করে লকাবে রেখে অভিযোগ কতটা গুরুতর, এর ওপর চলে দর-কষাকষি। অনেক ধারা সংযুক্ত করে বড় মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ২০-২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগকারী থানায় কী অভিযোগ করেছেন, কী সহায়তা পেলেন—এর খবর থাকে না ওসির কাছে। নভেম্বরে মজিবনগর দ্বীপ থেকে নারীসহ চারজনকে অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকের পর দক্ষিণ আইচা থানা হেফাজতে রেখে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে (৪০ হাজার) আদায় করে ছেড়ে দেন ওসি। মাদক সেবনের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দক্ষিণ আইচা বাজার থেকে শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর, রাকিব, সোহাগ ও মামুনকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেন তিনি। গত ১০ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ আইচার নুর নবী (২০) ও শামীম (২২) নামের দুজনকে ইয়াবাসহ আটক করে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন ওসি। নুর নবীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় আর টাকা দিতে না পারায় শামীমকে মাদক মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। চরমানিকা ইউনিয়নের সোহাগ (২০) বলেন, ‘১৪ নভেম্বর আমি আমাদের বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওসি হাবিবুর রহমান আমাকে বিভিন্ন অজুহাতে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে চার হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছি।’
 
পুলিশের নাকের ডগায় দক্ষিণ আইচার মধ্যবাজার রাব্বানিয়া আলিম মাদরাসাসংলগ্ন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে জুয়ার আসর বসে। আসরটি থেকে ওসি উেকাচ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভয়ে দক্ষিণ আইচার সংবাদকর্মীরাও তটস্থ থাকেন। অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মী মো. তুহিন দক্ষিণ আইচা থানার বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাঁকে ইয়াবা দিয়ে মামলা ও ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘মামলা দেওয়ার সময় আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চান ওসি। আমি সাত হাজার টাকা দেওয়ার পর মামলা নিয়েছেন।’ দক্ষিণ আইচার চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীন বলেন, ‘ওসি যা পান তাই লন।’
 
চরমানিকা ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল্যাহ হাওলাদার বলেন, ‘ওসি হাবিব একটা দরখাস্তের অনুকূলে (অভিযোগের ভিত্তিতে) আসামি ধরে ২০-২২ হাজার, অনেক সময় ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে ছেড়ে দেন।’ স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ওসি পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে উপপরিদর্শক বা মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তদন্তের পারিশ্রমিক হিসেবে সম্মানী দেওয়া শুরু করে সরকার। পুলিশকে আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে ২০১৮ সালে সম্মানীর টাকা দ্বিগুণ করা হয়। বর্তমানে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মামলা তদন্ত করতে মারামারি মামলায় এক হাজার ৫০০, অপহরণ মামলায় দুই হাজার ৫০০, নির্যাতিতার (ধর্ষণ) পরীক্ষা ও অপমৃত্যু মামলায় চার হাজার, হত্যা ও ডাকাতি মামলায় ছয় হাজার, চাঁদাবাজি মামলায় ২৫০০, নারী ও  শিশু নির্যাতন  মামলায় দুই হাজার, এসিডসহ অন্যান্য মামলায় দুই হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে খরচ দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থ শাখার থেকে এই টাকা ছাড় করা হয় বলে দক্ষিণ আইচা থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান। মামলা তদন্তের জন্য প্রথমে অর্ধেক টাকা ও তদন্তের শেষ পর্যায়ে বাকি টাকা ছাড় দেওয়া হয়।
 
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার থানায় মামলা গ্রহণ করতে এবং অভিযোগ দিতে কোনো টাকা লাগে না।’ অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া হবে।’
 
২২-০৫-২০১৮ ০৮:১৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
: আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন