পোশাক শিল্পের ৮০ শতাংশ কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধ
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  


পোশাক শিল্পের ৮০ শতাংশ কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধ

Sabuj ১৩-০৬-২০১৮ ০২:৪১ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ

মেহেদী হাসান আলবাকার :


ঈদের আগে আর বাকি মাত্র একটি কর্ম দিবস। ঈদের আনন্দ কিভাবে উদযাপন করবেন সবাই যখন এমন ভাবনায় ব্যস্ত তখন খানিকটা ভিন্ন চিত্র তৈরি পোষাক শিল্পের। কারণ বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোন কারখানা বেতন বোনাস ঠিকমতো পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঘটতে পারে বড় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা। শ্রমিক নেতাদের দাবি এখন পর্যন্ত আশি শতাংশেরও বেশি কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পেরেছে, দিন শেষে তা ৯০ শতাংশে দাড়াতে পারে। 

 

প্রতিবছরই ঈদের আগে ঠিকভাবে  বেতন ভাতা পরিশোধ একটা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এ শিল্প সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য। বেতন ভাতা নিয়ে সংশয় তৈরি হলেই শ্রমিকরা নেমে পড়েন রাস্তায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেরাইদেরচালা গ্রামের ওয়েস্টারিয়া টেক্সটাইল কারখানার প্রায় ৪০০ শ্রমিক ও স্টাফ বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এ সময় অন্তত ১০টি বাস ভাংচুর করা হয়। পরে শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

 

তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি। শবে কদরের ছুটি থাকলেও গ্রার্মেন্টস শিল্প এলাকাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। 

 

ঝামেলা এড়াতে ১০ জুনের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আহবার জানিয়েছিল সরকার। কিন্তু শিল্প অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর অধিকাংশ কারখানাই এ সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরও আগামী কালের মধ্যে বেতন বোনাস না পেলে শ্রমিকদের পথে নামা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। 

 

তিনি বলেন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলোর পরিস্থিতি ভাল হলেও তালিকার বাইরে থাকা কারখানা গুলো নিয়ে আশংকা আছে। এ ধরণের কয়েকটি কারখানা আগামী কালকের মধ্যে বেতন পরিশোধ পারবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ কারখানাগুলোল দেখভালের দায়িত্ব সরকারের কল কারখানা অধিদফতরের, কিন্তু জনবলসহ নানা সংকটে তারা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। 

 

আর বেতন ঈদের আগে পেলেও বোনাস নিয়ে সংশয়ে আছেন অনেক কারখানার শ্রমিকরা। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, বোনাসের বিষয়ে জাতীয় শ্রম আইনে একটু অস্পষ্টতা আছে। এর সুযোগ নিয়ে কোন কোন কারখানা বেসিকের অর্ধেক, আবার কোন কোন কারখানা চারভাগের এক ভাগ পর্যন্ত বোনাস দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় দাবি করে আসছি বেসিকের সম পরিমান বোনাস দেয়ার। কিন্তু খুব কম কারখানাই তা দিয়ে থাকে। 

 

এদিকে শিল্প পুলিশ গাজীপুরের পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, তার এলাকায় গত  এক সপ্তাহে বেতন হয়নি এমন কিছু কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেতন-বোনাসের দাবিতে মঙ্গলবারও শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করেছেন। আমরা তাদের সরিয়ে দিতে গেলে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। কিছু রাবার বুলেটও ছুড়তে হয়েছে।

 

দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা। শিল্প পুলিশের হিসাবমতে, এসব অঞ্চলে শিল্প-কারখানা রয়েছে মোট ৭ হাজার ৭৮টি। এর মধ্যে পোশাক খাতের কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৮ ও অন্যান্য খাতের কারখানা ৩ হাজার ৭৯০। 

 

এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাদের সব কারখানাই বেতন বোনাস পরিশোধ করতে পারবে। শ্রমিকরা সাধারণত শেষ দিনেই বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। এজন্য এখনো কিছু কারখানায় বেতন দেয়া হয় নি। ব্যাংকিং বা কোনো ধরনের সমস্যা এখন পর্যন্ত নেই। ছোটখাটো টুকটাক সমস্যা হয়, সেগুলো সমাধানও হয়ে যায়।

 

এদিকে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে অনেক মালিকই বেঁধে দেয়া সাত কর্মদিবসের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধের দিন বেতনসহ শ্রমিকদের অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করেন। এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটলেও মালিক-শ্রমিকের সমঝোতার ভিত্তিতে এটা সম্ভব হচ্ছে। তবে অসন্তোষপ্রবণ কারখানাগুলোর মধ্যেই দু-একটায় এরই মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এজন্য শিল্প পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

 

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবার চামড়া ও আবাসনসহ শিল্প খাতের মোট ৪৪২টি কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারখানার আওতায় শ্রমিক রয়েছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩৮ জন। অসন্তোষপ্রবণ কারখানাগুলোর মধ্যে পোশাক খাতের কারখানার সংখ্যা ২৮৮টি, যেখানে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৯ শ্রমিক। এর মধ্যে ১৬৫টি কারখানা আবার বিজিএমইএর সদস্য। অবশিষ্ট ৮৬টি বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা। বাকি ১৪টি কারখানা বিটিএমএর সদস্য।

 

শিল্প পুলিশ-১-এর আওতাধীন আশুলিয়া এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ৯৭টি। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ৩১, বিকেএমইএর ১৭, বিটিএমএর সদস্য দুটি কারখানা। এছাড়া অন্যান্য খাতের কারখানা রয়েছে ৪৭টি।

 

শিল্প পুলিশ-২-এর আওতাধীন গাজীপুরে অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ১৩৩টি। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য ৬৬টি, বিকেএমইএর সদস্য ১৯টি ও বিটিএমএর সদস্য তিনটি। এছাড়া অন্যান্য খাতের কারখানার সংখ্যা ৪৫টি।

 

শিল্প পুলিশ-৩-এর আওতাধীন চট্টগ্রামে অসন্তোষপ্রবণ কারখানার সংখ্যা ৯২। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ৪৩টি, বিকেএমইএর সদস্য চারটি ও বিটিএমএর সদস্য সাতটি কারখানা। বেপজার আওতায় ইপিজেডের কারখানা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া অন্যান্য খাতের কারখানার সংখ্যা ২৪।

 

শিল্প পুলিশ-৪-এর আওতাধীন নারায়ণগঞ্জে অসন্তোষপ্রবণ কারখানা ৮৫টি। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য ১১টি, বিকেএমইএর সদস্য ৪৬টি, বিটিএমএর সদস্য সাতটি এবং অন্যান্য খাতের কারখানা রয়েছে ২১টি।

 

শিল্প পুলিশ-৫-এর আওতাধীন ময়মনসিংহে অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ২৪টি। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য ১৪টি, বিটিএমএর সদস্য চারটি এবং অন্যান্য খাতের কারখানা ছয়টি। এছাড়া শিল্প পুলিশ-৬ খুলনায় অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ১১টি। সব কারখানাই পোশাক খাতের বাইরের।

১৩-০৬-২০১৮ ০২:৪১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
: আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন