ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে তোলপাড়
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:২৫ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  

রাজনীতি: বিএনপি


ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে তোলপাড়

Sabuj ২১-০৬-২০১৮ ১২:৪৯ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ

এম.উমর ফারুক :

 

দেরীতে কমিটি দিলেও বির্তকের বাইরে যেতে পারেনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। যোগ্য ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন না করে  ঘোষিত থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জটিলতা নিরসনে এবার দলের নীতিনির্ধারকরা এগিয়ে এসেছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে ঘোষিত থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে ত্যাগী, যোগ্যদের বাদ এবং বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করার তালিকাও তিনি সংগ্রহ করেছেন। 

 

গতকাল বুধবার সকাল নয়টায় তার উত্তরার বাসভবনে মহানগর উত্তরের বিদ্রোহী নেতারা কমিটির বিতর্কিত নেতাদের তালিকা হস্তান্তর করেন। এসময় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে তাদের আশ্বস্থ করেছেন। মহানগরের নেতারা এরপর বিকাল ৫টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের গুলশানস্থ বাসভবনে যান এবং সেখানেও তারা এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন। একইভাবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহানের বাসভবনে যান। পর্যায়ক্রমে তারা দলের সকল সিনিয়র নেতাকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। 

 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি  বলেন, তাদের এই তালিকা দেখে মহাসচিব তাদেরকে আশ্বস্থ করেছেন। তিনি এই তালিকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়ে দিবেন। মিষ্টি আরো বলেন, সময় স্বল্পতা আর তাড়াহুড়োর কারণে তালিকায় সকল তথ্য দেওয়া যায়নি। সময় পেলে আরো অনেক তথ্য দিতে পারতাম। 

 

মহানগর উত্তরের নেতারা ২টি তালিকা তৈরী করেন। এর মধ্যে একটিতে পদবঞ্চিত ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি থানায় ১০৭ জন নেতার নাম রয়েছে। অপর তালিকায় ঘোষিত কমিটির বিতর্কিত ও অযোগ্য নেতাদের তালিকা রয়েছে। 

 

মহানগর উত্তর বিএনপির ৬৬ জন নেতার মধ্যে ৩০ জন নেতা ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করেন। তালিকায় দলীয় নেতার হত্যাকারী এবং ফাঁসির আসামীকে পদায়ন ছাড়াও মাদক ব্যবসায়, দলিল লেখক, ডাকাত, মানব পাচারকারী, নারী নির্যাতনকারী, নেতাদের দেহরক্ষী ছাড়াও জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্টজনদের নাম রয়েছে। 

 

এর মধ্যে ঘোষিত ভাষানটেক থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইব্রাহীম খলিল র‌্যাব ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। বিএনপির সাবেক কমিশনার ও সাবেক ছাত্রদল প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত সায়েদুর রহমান নিউটন হত্যা মামলার ফাঁসির আসামী। ২০০৭ সালের অক্টোবরে অন্যান্য তিন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তাকে ভারত থেকে পুশব্যাক করা হয়েছিলো। বর্তমানে তিনি পলাতক অবস্থায় মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। এ ধরণের বিতর্কিতকে কমিটিতে রাখায় কমিটির বাকি সকল সদস্য ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি আমানউল্লাহ ভুইয়া মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে থানায় তার ছবিসহ নাম ঝোলানো রয়েছে। এক সময়ে তিনি দলিল লেখক ছিলেন। 

 

সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ খোকা ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং কামারপাড়া ঈদগাহ মাঠে প্রকাশ্যে বিচার করা হয়। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েতুল হাফিজ এর আগে বিএনপির কোন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এলাকায় বহিরাগত এবং একজন নারী নির্যাতনকারী (ধর্ষণ)  হিসেবে কয়েকদিন আগে কারাগার থেকে বের হয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বনানী থানা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বেতনভুক্ত নিরাপত্তারক্ষী-সিএসএফে কর্মরত। 

 

উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. দুলাল বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কিছুদিন আগে নারী ও মাদকসহ উত্তরা পূর্ব থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল পাশা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টুটুল ৪/৫ বছর আগে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। দক্ষিখান থানার সভাপতি সাহাবউদ্দিন সাগর এক যুগ ধরে নিস্ক্রিয়। সাংগঠনিক সম্পাদক আমীরুল ইসলাম বাবলু র‌্যাব ও পুলিশের তালিকাভ‚ক্ত মাদক ব্যবসায়ী। 

 

দারুস সালাম থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির নিজ বাসায় নারী ব্যবসার অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াজ উদ্দিন মিয়া ইয়াবা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দলিল লেখক এই নেতা জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) রাজনীতির সাথে ২ বছর আগেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু আহসান উল্লাহ হাসানের আপন খালাত ভাই হওয়ায় তাকে এই গুরুত্বপুর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। রুপনগর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আওয়াল দলের কোন পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর আহসানউল্লাহ্ হাসানের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতো। সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবর, যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান অখ্যাত। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের কোন পরিচিতি নাই। 

 

পল্লবী থানা বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এমপির সাথে ঘনিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ মল্লিক, সহ সভাপতি হাজী তৈয়ব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমাসউদ্দিন, মনির হোসেনকে পদ দিয়েছেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক। 

 

এছাড়া বয়োবৃদ্ধ হিসেবে অনেক নেতা রয়েছেন। যারা নিজেরা ঠিকমতো হাঁটাচলা পর্যন্ত করতে পারেন না। নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে মিরপুর থানা বিএনপির সহ সভাপতি মজিবর রহমান নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব, শাহ আলী থানার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রওশন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান (ছোট মিজান), হৃপনগর থানার সহ সভাপতি হেলালউদ্দিন চপল, পল্লবী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক লাবলু, উত্তরা পশ্চিম থানার যুগ্ম সম্পাদক মেজবাহউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগে ইতিপুর্বে ছাত্রদল থেকে অব্যহতিপ্রাপ্ত। যা এখনো বলবৎ আছে। উত্তরা পুর্ব থানা সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এফ ইসলাম চন্দন বিগত ১০ বছর ধরে নিস্ক্রিয়। বিমানবন্দর তানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জুয়েল ওয়ান ইলেভেন থেকেই নিস্ক্রিয়। এর বাইরেও আরো অনেকে রয়েছেন এই তালিকায়।

 

এদিকে এলাকাবাসীর পরিচয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ-বিত্ত-বৈভব, জালিয়াতি সহ নানা অপকর্মের তালিকা তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগে হাসানের উত্থান সহ তার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জবর দখল, শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াও দেশে এবং বিদেশে তার ও তার পরিবারের অঢেল সম্পত্তির বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। 

 

২১-০৬-২০১৮ ১২:৪৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
রাজনীতি : আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:২৫ অপরাহ্ন