ঘুষের টাকায় কোটিপতি পাসপোর্ট কর্মকর্তা সাইদুল
আজকের কণ্ঠঃ ওয়েবসাইটে স্বাগতম | যোগাযোগ : 01730951049, 8802 58316319, 8802 5831 6320
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:২২ অপরাহ্ন       রেজিষ্টার করুন | লগইন    


  


ঘুষের টাকায় কোটিপতি পাসপোর্ট কর্মকর্তা সাইদুল

Sabuj ০২-০৭-২০১৮ ০৩:২০ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ

 

সিনিয়র রিপোর্টার : 

 

একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়েও কোটিপতি বনে গেছেন সাইদুল ইসলাম। চাকরিতে যোগ দেয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অার এ সবই করেছেন ঘুষ আর দুর্নীতির মাধ্যমে। 

 

এভাবে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এই উপ-পরিচালক। সাইদুল ইসলাম বর্তমানে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ীতে কর্মরত আছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাইদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের মধ‌্যে রয়েছে- নিজ এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায় ১০ বিঘার পুকুর, কাশিয়ানি বাজারে ভবনসহ ১০ শতাংশ জমি, ২০ বিঘার ওপর ফার্ম, নরসিংদীতে ২৯ ও ৬৫ শতাংশ জায়গার ওপর কারখানা, রাজধানীর উত্তরায় প্লট ও ফ্ল্যাট, বছিলা বেড়িবাঁধের পাশে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে ৫ কাঠার প্লট, শ্যাওড়া পাড়ায় ১৭ কাঠা জায়গা, মোহাম্মাদপুরের ইকবাল রোডে ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের ফ্ল‌্যাট ও ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট ইত‌্যাদি।

 

এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে আসা ওই অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলমকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার অফিসে গিয়েও দেখা মেলেনি। 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, অফিসে সাইদুল ইসলাম ঘুষ আর অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পান না। নানাভাবে তিনি ঊর্দ্ধতন মহলকে ম্যানেজ করেই তার অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ গোপন করে তিনি পদোন্নতি নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।  

 

সরেজমিনে যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সব কাজেই দালালদের দৌরাত্ম। ফরম জমা দেওয়া, ছবি তোলা, পাসপোর্ট দেওয়া-সবকিছুতেই চলে টাকার খেলা। দালালদের হাতে টাকা দিলেই মিলছে সেবা। অন্যথায় মাসের পর মাস ঘুরেও অনেকেই পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না। আর এই সব দালালদের মাথার ওপরে রয়েছেন উপপরিচালক সাইদুল ইসলাম। 

 

জানা যায়, সাইদুল ইসলাম বিভিন্ন অফিসে কর্মরত থাকাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ অফিসে কর্মরত থাকাকালে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্লাংক পাসপোর্ট ও ভুয়া এনওসির মাধ‌্যমে অর্ডিনারি ফি’তে জরুরি পাসপোর্ট ইস্যু করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

 

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা অফিসে কর্মকর্তা থাকাকালে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে দালালের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা তিনি ধামাচাপা দিয়েছেন।

০২-০৭-২০১৮ ০৩:২০ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে


পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ

আজকের কণ্ঠঃ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

অন্যান্য খবরসমুহ
: আরো খরবসমুহ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত
ফেসবুকে আজকের কণ্ঠঃ
আজকের কণ্ঠঃ ফোকাস
বিজ্ঞাপন

ভিজিটর সংখ্যা
100
৩১ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:২২ অপরাহ্ন