6:55 pm, Thursday, 30 May 2024

পঞ্চগড়ে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা

প্রতিনিধির নাম

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা:

পঞ্চগড়ে শাহনাজ বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী আব্দুল মজিদসহ আটজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।সোমবার (১৫ এপ্রিল) শাহনাজ বেগমের নানা খোরশেদ আলম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ আমলী আদালত-২, মামলাটি দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২২ এপ্রিল আদেশের জন্য দিন নির্ধারন করে। বাদী দেবীগঞ্জের টোকরাভাষা কইপাড়া এলাকার মসলিম উদ্দিনের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়,শাহনাজ বেগম বাদীর মেয়ের ঘরের নাতিনী।মেয়ে জামাই শাহ আলম মারা যাওয়ার পর নাতিনী শাহনাজ বেগমকে লালন পালন করে। ২০১৮ সালে উপজেলার মতিয়ার পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে ১নং আসামী মো.আব্দুল মজিদ এর সহিত ইসলামী শরা শরীয়ত মোতাবেক কাবিন মূলে বিয়ে দেয়। শাহনাজ তার স্বামী সংসার করা কালীন সময়ে ১,৪,৫,৮ নং আসামীগন যৌতুকের জন্য প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। শত নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসার করাকালীন সময় ২টি সন্তানের মা হয় শাহনাজ।একজনের বয়স ৫ বছর আরেকজনের ৪ মাস।আব্দুল মজিদ অন্য আসামীদের প্ররোচনায় একলাখ টাকা যৌতুক দাবী করে ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।পরে ভিকটিম শাহনাজ গত বছরের ৩ অক্টোবর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা আনয়ন করে।মামলাটি বিচারাধীন।১নং আসামী ভিকটিম শাহনাজকে নিয়ে সংসার করার কথায় আপোষ করে আদালত থেকে জামিন লাভ করে। আসামী আব্দুল মজিদ তার বাচ্চাসহ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা যায় এবং সেখানেও তাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।ভিকটিম শাহনাজকে হত্যা করার পরিকল্পনা করিতে থাকে গত ৮ এপ্রিল ১নং আসামী তার স্ত্রী সন্তান সহ বাদীর বাড়ীতে আসে এবং পরের দিন ঈদের জন্য আব্দুল মজিদ তার স্ত্রী ও বাচ্চাদেরকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। আসামী আব্দুল মজিদ অন্য আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ঈদের দিন ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টার মধ্যে আসামীগন ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়ে সু-পরিকল্পিত ভাবে ১নংআসামীর শয়ন ঘরে ভিকটিম শাহনাজকে ধারালো ছোরা দিয়ে গলায় লাগাইয়া দিয়া জবাই করে, ভিকটিমের বাম হাতে,উরুতে, বুকে, পিঠে, পেটে ছুরিকাঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।সে সময় এলাকার লোকজন ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে গেলে আসামীগন সু কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।১নং আসামী ভিকটিমের মাকে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর বিষয়টি জানায়।বাদী ঈদের নামাজ পরে বাড়ীতে আসে এবং স্ত্রীর মুখে শুনিয়া তারাতারি মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে যায়। বাদী গিয়ে দেখে শাহনাজ মৃত অবস্থায় সাদা জামা এবং গোলাপী রং এর পায়জামা ও রক্তাক্তে মাটিতে পরে আছে। বাদী ও তার স্ত্রী কান্না কাটি ও চিৎকার চেচামেচি করলে আরো লোকজন ঘটনাস্থলে আসে। মামলার বাদী খোরশেদ আলম বলেন, মোবাইল ফোনে খবর শুনে গিয়ে দেখি জবাই করে হত্যা করেছে।এসময় আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায় পরে আমরা মামলা করতে থানায় যাই কিন্তু থানার পুলিশ আমাদের সাথে খারাপ আচরন করে। মামলা নেয়নি। তাই আদালতে মামলা করছি।আশাকরি ন্যায় বিচার পাবো। বাদীর আইনজীবি মো.নজরুল ইসলাম জানান,মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি।বিচারক আমলে নিয়ে ২২ এপ্রিল আদেশের জন্য দিন নির্ধারন করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপডেট সময় : 05:55:39 pm, Monday, 15 April 2024
97 বার পড়া হয়েছে
error: Content is protected !!

পঞ্চগড়ে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা

আপডেট সময় : 05:55:39 pm, Monday, 15 April 2024

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা:

পঞ্চগড়ে শাহনাজ বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী আব্দুল মজিদসহ আটজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।সোমবার (১৫ এপ্রিল) শাহনাজ বেগমের নানা খোরশেদ আলম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ আমলী আদালত-২, মামলাটি দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২২ এপ্রিল আদেশের জন্য দিন নির্ধারন করে। বাদী দেবীগঞ্জের টোকরাভাষা কইপাড়া এলাকার মসলিম উদ্দিনের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়,শাহনাজ বেগম বাদীর মেয়ের ঘরের নাতিনী।মেয়ে জামাই শাহ আলম মারা যাওয়ার পর নাতিনী শাহনাজ বেগমকে লালন পালন করে। ২০১৮ সালে উপজেলার মতিয়ার পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে ১নং আসামী মো.আব্দুল মজিদ এর সহিত ইসলামী শরা শরীয়ত মোতাবেক কাবিন মূলে বিয়ে দেয়। শাহনাজ তার স্বামী সংসার করা কালীন সময়ে ১,৪,৫,৮ নং আসামীগন যৌতুকের জন্য প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। শত নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসার করাকালীন সময় ২টি সন্তানের মা হয় শাহনাজ।একজনের বয়স ৫ বছর আরেকজনের ৪ মাস।আব্দুল মজিদ অন্য আসামীদের প্ররোচনায় একলাখ টাকা যৌতুক দাবী করে ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।পরে ভিকটিম শাহনাজ গত বছরের ৩ অক্টোবর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা আনয়ন করে।মামলাটি বিচারাধীন।১নং আসামী ভিকটিম শাহনাজকে নিয়ে সংসার করার কথায় আপোষ করে আদালত থেকে জামিন লাভ করে। আসামী আব্দুল মজিদ তার বাচ্চাসহ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা যায় এবং সেখানেও তাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।ভিকটিম শাহনাজকে হত্যা করার পরিকল্পনা করিতে থাকে গত ৮ এপ্রিল ১নং আসামী তার স্ত্রী সন্তান সহ বাদীর বাড়ীতে আসে এবং পরের দিন ঈদের জন্য আব্দুল মজিদ তার স্ত্রী ও বাচ্চাদেরকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। আসামী আব্দুল মজিদ অন্য আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ঈদের দিন ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টার মধ্যে আসামীগন ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়ে সু-পরিকল্পিত ভাবে ১নংআসামীর শয়ন ঘরে ভিকটিম শাহনাজকে ধারালো ছোরা দিয়ে গলায় লাগাইয়া দিয়া জবাই করে, ভিকটিমের বাম হাতে,উরুতে, বুকে, পিঠে, পেটে ছুরিকাঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।সে সময় এলাকার লোকজন ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে গেলে আসামীগন সু কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।১নং আসামী ভিকটিমের মাকে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর বিষয়টি জানায়।বাদী ঈদের নামাজ পরে বাড়ীতে আসে এবং স্ত্রীর মুখে শুনিয়া তারাতারি মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে যায়। বাদী গিয়ে দেখে শাহনাজ মৃত অবস্থায় সাদা জামা এবং গোলাপী রং এর পায়জামা ও রক্তাক্তে মাটিতে পরে আছে। বাদী ও তার স্ত্রী কান্না কাটি ও চিৎকার চেচামেচি করলে আরো লোকজন ঘটনাস্থলে আসে। মামলার বাদী খোরশেদ আলম বলেন, মোবাইল ফোনে খবর শুনে গিয়ে দেখি জবাই করে হত্যা করেছে।এসময় আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায় পরে আমরা মামলা করতে থানায় যাই কিন্তু থানার পুলিশ আমাদের সাথে খারাপ আচরন করে। মামলা নেয়নি। তাই আদালতে মামলা করছি।আশাকরি ন্যায় বিচার পাবো। বাদীর আইনজীবি মো.নজরুল ইসলাম জানান,মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি।বিচারক আমলে নিয়ে ২২ এপ্রিল আদেশের জন্য দিন নির্ধারন করেছেন।